বাংলাদেশ

ছুটি বাতিল, ২৩৬২

ঘূর্ণিঝড় ফণির মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাঠপর্যায়ের সকল কমিউনিটি ক্লিনিকও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিন বিভাগে গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম। প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে ২ মে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নির্দেশনামূলক গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত সম্ভাব্য জেলার উপজেলাসমূহের সকল চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি এবং সব ধরনের প্রশিক্ষণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা, উপজেলায় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জেলা পর্যায়ে তিনটি, উপজেলা পর্যায়ে পাঁচটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি ‘জরুরি মেডিকেল টিম’ গঠন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগে ৪৯৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১,০৪৮টি এবং খুলনা বিভাগে ৮১৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে জেলা/ উপজেলাভিত্তিক স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। এই সকল কন্ট্রোল রুম সব সময় ‘ন্যাশনাল হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে। সেই সাথে অধিনস্ত পর্যায়ের স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে।

যোগাযোগের হটলাইন নম্বরগুলো হলো- ০১৭৬৯৯৫৪১৩৭/ ০১৭৫৯১১৪৪৮৮/ ৯৮৫৫৯৩৩।

এই সব দুর্যোগপূর্ণ বিভাগে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ সকল প্রকার এন্টিবায়োটিক, ওআরএসসহ পর্যাপ্ত পরিমান ঔষধের মজুদ রাখা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হতে ১০ হাজার ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসা প্রদানের মত প্রয়োজনীয় ঔষধপত্রাদি সম্ভাব্য প্রত্যেকটি বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ হতে ইতোমধ্যে জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ঔষধ সরঞ্জামাদি জেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ট্যাব এজিথ্রমাইসিন ৫০০ এমজি ৫০০০, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ৪,৭৭,৮০০টি, কলেরা স্যালাইন ১০০০ সিসির (সেটসহ) ৬০০ ব্যাগসহ অন্যান্য জরুরি ঔষধ মজুদ আছে।

এ ছাড়াও জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহকে একযোগে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োাজনে নিকটবর্তী মেডিকেল হাসপাতাল থেকে নবীন চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষা পর্যায়ের শেষ ধাপের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় জাতীয় রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ন্যাশনা র্যা পিড রেসপন্স টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।

এছাড়াও হট লাইনে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ নম্বরের ব্যবস্থঅ করা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো- ০১৯৩৭০০০০১১/ ০১৯৩৭১১০০১১/ ০১৯২৭৭৭১১৭৮৪/ ০১৯২৭৭১১৭৮৫।

এছাড়াও অন্যান্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগ সদা প্রস্তুত থাকবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আক্কাস আলী সেখ স্বাক্ষরিত সাংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *